বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় মোস্তফা সেলিম যোগ করেছেন এক নতুন সুর। সিলেটি নাগরীলিপি রেনেসাঁসে তিনি গবেষক, প্রকাশক এবং সংগঠক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নাগরীলিপি ও সাহিত্য বিষয়ে এ-পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ৩২টি। ২০০৯ সালে নাগরীলিপির গ্রন্থ কেতাব হালতুননবী প্রকাশ করে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করেন ‘ফিরে দেখা: সিলেটি নাগরী’ শীর্ষক সুধী সমাবেশ। এই সমাবেশে তিনি সিলেটি নাগরীলিপির নবজাগরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ২০২১ সালে মোস্তফা সেলিম নাগরীলিপির আদি পাণ্ডুলিপি ‘তালিব হুসন’ এর অন্তর্ভুক্ত গানগুলো সংকলন ও সম্পাদনা করে গোলাম হুসনের গান নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি বাংলা মরমি গানের আদি পাণ্ডুলিপি (১৭৭৪), ২৪৭ বছর এ-পাণ্ডুলিপি ছিল অপ্রকাশিত। এ-গ্রন্থের গানগুলো প্রকাশের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানের ইতিহাসে যোগ করেছেন এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ‘চর্যাগীতি’ বাংলালিপির আদি নিদর্শন এবং সিলেটি নাগরীলিপির আদি নিদর্শন গোলাম হুসন রচিত ‘তালিব হুসন’। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দুষ্প্রাপ্য দুটো পত্রিকা সাপ্তাহিক জন্মভূমি ও সাপ্তাহিক মুক্তবাংলা তিনি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪০-এর অধিক। পেশাজীবনে তিনি প্রকাশক, উৎস প্রকাশনের কর্ণধার। তাঁর প্রতিষ্ঠান মৌলিকচিন্তার বইপত্র প্রকাশ করে দেশের পাঠকমহলে বিপুল সমাদৃত। মোস্তফা সেলিমের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। জন্ম ১৯৭০ সালে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায়, ইটাউরি গ্রামে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি-র সংস্কৃতি গবেষণা পদক’, ‘রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার’সহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।